সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জিপিএফ (General Provident Fund) একটি গুরুত্বপূর্ণ সঞ্চয় মাধ্যম। আগে ব্যালেন্স জানতে হিসাবরক্ষণ অফিসে গিয়ে স্লিপ সংগ্রহ করতে হতো, কিন্তু এখন অনলাইনে ঘরে বসেই কয়েক মিনিটে এই তথ্য জানা যায়। নিচে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়াটি তুলে ধরা হলো।
জিপিএফ ব্যালেন্স চেক করার জন্য যা যা লাগবে
- জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) নম্বর
- পে-ফিক্সেশনের সময় ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর (এটি iBAS++ সিস্টেমে নিবন্ধিত থাকতে হবে)
- ইন্টারনেট সংযোগসহ একটি স্মার্টফোন বা কম্পিউটার
অনলাইনে জিপিএফ ব্যালেন্স চেক করার ধাপসমূহ
ধাপ ১: সরকারি পোর্টালে প্রবেশ করুন প্রথমে চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার (পেনশন ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট)-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান। এটিই এখন জিপিএফ সংক্রান্ত সব তথ্যের মূল সরকারি সোর্স।
ধাপ ২: GPF Information অপশন খুঁজে বের করুন হোমপেজে একটু নিচের দিকে স্ক্রল করলে GPF Information নামে একটি ট্যাব বা আইকন পাওয়া যাবে। সেখানে ক্লিক করলে জিপিএফ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দেখার অপশন চলে আসবে।
ধাপ ৩: পরিচয় যাচাই করুন এই ধাপে তিনটি তথ্য দিতে হবে —
- NID নম্বর (১০ বা ১৭ ডিজিট, পে-ফিক্সেশনে যেটি ব্যবহার করা হয়েছিল সেটিই দিতে হবে)
- নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর
- যে অর্থবছরের হিসাব দেখতে চান (যেমন ২০২৪-২৫ বা ২০২৫-২৬)
ধাপ ৪: ওটিপি যাচাই করুন তথ্য জমা দেওয়ার পর মোবাইলে একটি ওটিপি (OTP) কোড আসবে। নির্দিষ্ট ঘরে কোডটি বসিয়ে সাবমিট করলেই যাচাই সম্পন্ন হবে।
ধাপ ৫: ব্যালেন্স ও স্লিপ দেখুন এবং ডাউনলোড করুন সফলভাবে লগইন হলে স্ক্রিনে জিপিএফ অ্যাকাউন্টস স্লিপ চলে আসবে, যেখানে দেখা যাবে —
- চলতি সমাপনী স্থিতি (Closing Balance)
- মাসভিত্তিক জমার হিসাব
- চাইলে তা প্রিন্ট বা পিডিএফ আকারে ডাউনলোডও করা যায়
কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
- মোবাইল নম্বর অবশ্যই iBAS++ সিস্টেমে নিবন্ধিত নম্বরটিই হতে হবে; অন্যথায় ওটিপি পাওয়া যাবে না।
- নম্বর পরিবর্তন হয়ে থাকলে নিজের হিসাবরক্ষণ অফিসে (CAO/DCA/UAO) যোগাযোগ করে আগে তা আপডেট করে নিতে হবে।
- ১৭ ডিজিটের এনআইডি দিয়ে কাজ না করলে এনআইডির শুরুতে জন্মসাল যোগ করে আবার চেষ্টা করা যেতে পারে।
- সরকারি হিসাবের জন্য সবসময় মূল সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করাই নিরাপদ; ফেসবুক বা অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের লিংকে ব্যক্তিগত তথ্য না দেওয়াই ভালো।
শেষ কথা
আগে যেখানে জিপিএফ ব্যালেন্স জানতে অফিসে অফিসে ঘুরতে হতো, এখন সেটাই সম্ভব হচ্ছে হাতের মোবাইল দিয়ে মাত্র কয়েক মিনিটে। নিয়মিত ব্যালেন্স চেক করে রাখলে ভবিষ্যতে আর্থিক পরিকল্পনা করাও সহজ হয়।